Dr. Jakir Hossain Laskar, PhD
আপনার সন্তান বা পরিচিত কেউ কি প্রখর বুদ্ধি রাখা সত্ত্বেও রিডিং পড়তে হিমশিম খায়, বানানে বারবার ভুল করে কিংবা অঙ্কের হিসাব মেলাতে গিয়ে খৈ হারিয়ে ফেলে? উত্তর কিন্তু তার অলসতা নয়—এর পেছনে থাকতে পারে ‘লার্নিং ডিজেবিলিটি’ (Learning Disability)।
বুদ্ধিমান হওয়া সত্ত্বেও কেন এমন হয়?
লার্নিং ডিজেবিলিটি কখনোই বুদ্ধি কম হওয়ার লক্ষণ নয়। প্রকৃতপক্ষে, আলবার্ট আইনস্টাইন বা থমাস এডিসনের মতো অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিরও নির্দিষ্ট লার্নিং ডিজেবিলিটি ছিল। এটি আসলে মস্তিষ্কের তথ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের (information processing) একটি ভিন্ন ধরণ।
সহজ কথায়, সাধারণ শিশু যেভাবে কোনো লেখা বা ছবি দেখে বা শুনে শেখে, লার্নিং ডিজেবিলিটি থাকা শিশুর মস্তিষ্ক সেই সংকেতগুলোকে একটু ভিন্নভাবে গ্রহণ ও অনুবাদ করে।
প্রধান প্রকারভেদসমূহ
- ডিসলেক্সিয়া (Dyslexia): রিডিং পড়তে না পারা, অক্ষর চিনে উঠতে সমস্যা হওয়া বা একই অক্ষর উল্টো দেখা (যেমন: ‘b’ কে ‘d’ ভাবা)।
- ডিসক্যালকুলিয়া (Dyscalculia): গাণিতিক হিসাব বা সংখ্যা বোঝার ক্ষেত্রে প্রাথমিক জটিলতা।
- ডিসগ্রাফিয়া (Dysgraphia): স্পষ্ট ও সোজা লাইনে লিখতে সমস্যা হওয়া এবং চিন্তা অনুযায়ী হাত চালাতে কষ্ট হওয়া।
কী করা উচিত?
১. বকুনি নয়, সমবেদনা: “মন দিয়ে পড়ছিস না” বলে বকাঝকা করলে শিশুর আত্মবিশ্বাস একেবারেই নষ্ট হয়ে যায়।
২. বিশেষজ্ঞের পরামর্শ (Assessment): একজন এডুকেশনাল সাইকোলজিস্ট বা নিউরোলজিস্টের দ্বারা মূল্যায়ন করিয়ে সঠিক শনাক্তকরণ প্রয়োজন।
৩. মাল্টি-সেন্সরি লার্নিং (Multi-sensory Learning): শুধু বইয়ের অক্ষরের বদলে ছবি, অডিও, প্র্যাকটিক্যাল মডেল ও ভিজ্যুয়াল মেথড ব্যবহার করে শেখানো হলে এরা খুব দ্রুত উন্নতি করে।
লার্নিং ডিজেবিলিটি কোনো রোগ নয়, এটি শেখার একটি ভিন্ন মাধ্যম। সঠিক গাইডেন্স ও সঠিক কৌশল পেলে এই শিশুরা সাধারণ শিশুদের চেয়েও অনেক বেশি সফল হতে পারে।

